Friday, May 30, 2014

শনিবারে....র দুপুরবেলা

"দুপুর" - এই কথাটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ছোট্টবেলার  কিছু ভালোলাগা টুকরো টুকরো  স্মৃতি।  স্কুল পড়াকালীন, অপেখ্যা করে থাকতাম সপ্তাহের শেষে শনি আর রবিবারের দুপুর গুলোর জন্য। শনিবারের দুপুর মানেই আমার কাছে ছিল দিদা বা মায়ের হাতের রান্না করা নিরামিষ তরকারী দিয়ে ভাত খাওয়া। ডাল, ভাত, বাদাম দেওয়া কুরকুরে আলুভাজা, শুক্তো, কাঁচকলার কোপ্তা আর চাটনি দিয়ে আটপৌরে খাওয়া

তারপর শুয়ে শুয়ে জানালার বাইরে নীল আকাশে মেঘ দেখতে দেখতে, কালো রঙের ফিলিপস এর রেডিওটাতে শুনে যেতাম একটার পর একটা অনুষ্ঠান অপেখ্যা করে থাকতাম কখন শ্রাবন্তী মজুমদারের গলায়ে শুনতে পাব "মাথার ঘন চুল যখন মরুভূমি হয়ে যায়ে, ওএসিস নিয়ে আসে মরুদ্যান মেঘের ছায়ায় ছায়ায়" চোখ দুটো যখন ঘুমে জড়িয়ে আসতো, তখন শুরু হত "শনিবারে....র বারবেলা" শনিবারের বারবেলার শুরুতে "ক্যাচচচচচ" করে মরচে যাওয়া দরজা খোলার শব্দটা  যেন কেমন একটা আধি-ভৌতিক পরিবেশের সৃষ্টি করত। তার সঙ্গে তাল মেলাত মাথার উপরে ঘুরতে থাকা খৈতান ফ্যানটার ক্যাচর  ক্যাচর শব্দ। দিদার মুখে শুনেছিলাম "ঠিক দুপ্পুরবেলা ভূতে মারে ঢেলা" ভূতের খপ্পরে পরার ভয়ে, চুপচাপ ঘুমিয়ে পরতাম। 


দেওয়াল  ঘড়ির কাঁটাটা যখন ধীরে ধীরে পাঁচটার ঘরের দিকে এগিয়ে যেত, কাঁচের জানালাটার ফাঁক দিয়ে বিকেলের হালকা রোদ্দুর এসে পরতো খাটের উপর।দূর থেকে শুনতে পেতাম "কোয়ালিটি আইসসসক্রিম" বা "আইইসক্রিম রলিক" হাতে পাঁচ টাকার নোট নিয়ে দৌড়ে চলে যেতাম বারান্দাতে। ভ্যানিলা বা স্ট্রবেরির কাপ হাতে নিয়ে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকতাম পশ্চিমে ঢলে পরা অস্তমিত সূর্যের দিকে। শুনতে পেতাম মা ডাক দিচ্ছে "হোম ওয়ার্ক করতে বোস "  
  
ফেলে আশা ছেলেবেলাটাকে খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ পেয়ে গেলাম এই লিংকটা -




যদিও  অনেকগুলো পুরনো অনুষ্ঠান খুঁজে পেলাম না, তবুও কিছু কিছু আর্কাইভ বেশ ভালো লাগলো। আশা করি সকলের ভালো লাগবে।